মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

শিক্ষা প্রতিবেদন

২০১৩ সালের মেহেরপুর জেলার শিক্ষা প্রতিবেদন

 

শিক্ষার আশ্চর্য যাদুবলেই সেই আদিকাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত মানুষ নানা কর্মকান্ডে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছে। জীবন চলার একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে শিক্ষা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা মানব জাতির জীবন ব্যবস্থার উৎকর্ষগত যে বিশাল সম্ভাবনাকে আলোকিত করেছে তার পশ্চাতে রয়েছে শিক্ষা।

 

প্রকার অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান :

 

ক্রমিক নং

প্রতিষ্ঠানের ধরন

মেহেরপুর সদর

গাংনী

মুজিবনগর

মোট

০১.

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

১৩

১৭

০৫

৩৫

০২.

মাধ্যমিক বিদ্যালয়

২৯

৪৭

০৯

৮৫

০৩.

স্কুল এন্ড কলেজ

০২

০১

-

০৩

০৪.

উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ

০১

০৫

০১

০৭

০৫.

ডিগ্রী/অনার্স কলেজ

০৩

০২

০১

০৬

০৬.

মাদরাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল)

১২

১০

০৪

২৬

০৭.

টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

০৪

০২

০১

০৭

                                          সর্বমোট =

৬৪

৮৪

২১

১৬৯

 

 

শিক্ষক সংক্রান্ত তথ্যছক:

ক্রমিক নং

প্রতিষ্ঠানের ধরণ

শিক্ষক সংখ্যা

পুরুষ

মহিলা

০১.

নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়

১৭৫১

১৫০৯

২৪২

০২.

মাদরাসা (দাখিল পর্যায়ে)

৩৬৩

২৯৮

৬৫

 

                            

 

শিক্ষার্থী সংক্রান্ত তথ্য  :২০১৩ সালের মেহেরপুর জেলার নিম্ন মাধ্যমিক/মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা -৪৫,১৯৪ জন।

                                  মাদরাসায় দাখিল পর্যায়ের মেহেরপুর জেলার মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা -৫২১১ জন।

 

ফলাফল :

 

 (ক)জেএসসি-২০১২  :২০১২ সালে মেহেরপুর জেলায় তিনটি উপজেলায় (সদর, গাংনী ও মুজিবনগর) জেএসসি পরীক্ষায় মোট রেজিষ্টেশনকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা-৭১৯৯ জন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা -৬২৮৭ জন, পাশকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা -৩,৫৭৭ জন। পাশের হার ৬৯.৯২%।

 

 (খ) এসএসসি-২০১৩-২০১৩ সালে মেহেরপুর জেলায় তিনটি উপজেলা (সদর, গাংনী ও মুজিবনগর) এসএসসি পরীক্ষার

 কেন্দ্র ছিল ০৫টি। এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী  মাধ্যমিক পর্যায়ে  মোট  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা- ১০৪টি। মোট রেজিষ্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৪৫৬ জন  তার মধ্যে ছাত্র ২২২৬ জন ছাত্রী ২২৩০ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৪৪১ জন যার   ২২২৩ জন ছাত্র  ও ২২১৮ জন ছাত্রী। পাশকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা -৪১২৭ জন, ছাত্র -২০৭৭ জন, ছাত্রী-২০৫০ জন। ২০১৩ সালে পাশের গড় হার ৯২.৯৩%। খুলনা বিভাগের  ১০টি জেলার মধ্যে এসএসসি ফলাফলের দিক থেকে মেহেরপুর জেলার অবস্থান ৫ম।

 

পাঠ্যপুস্তক বিতরণ :২০১৩ সালে মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলায় (সদর, গাংনী ও মুজিবনগর) বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের সংখ্যা নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫,৪৩,৯৭৭ টি এবং মাদরাসায় (দাখিল পর্যায়ে) ৪৬,১৯৭টি।

 

উপবৃত্তি  :২০১২ সালে মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা (সদর, গাংনী ও মুজিবনগর) স্কুল ও মাদরাসায় পর্যায়ে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা -১৭৬৭৫ জন তাদের মধ্যে বিতরণকৃত টাকার পরিমাণ ২,৪০,৩৮,৮২০/- (দুই কোটি চল্লিশ লক্ষ আটত্রিশ হাজার আটশত বিশ টাকা মাত্র)

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সেকেন্ডারী এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসইএসডিপি) মাধ্যমিক শিক্ষার মানউন্নয়ন তথা শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রজেক্টের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাখাতের ব্যবস্থাপনা সংস্কার, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, কারিকুলাম পরিমার্জন ও উন্নয়ন, পরীক্ষা  ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

এসইএসডিপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার। এ লক্ষে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সৃজনশীল  প্রশ্নপদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে শিখন শেখানো কার্যক্রমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। মেহেরপুর জেলায় সৃজনশীলপ্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন বিষয়ে ৯৪০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

 

যেকোন সৃজনশীল কাজের জন্য সৃজনশীল মেধাবী মানুষ প্রয়োজন। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান প্রযুক্তিসহ সকল ক্ষেত্রেই সৃজনশীল নেতৃত্ব সমাজকে গতিশীল করে।  গতিশীল নেতৃত্ব ব্যতীত সৃজনশীল কাজের নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব নয়। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রয়োজনেই মেধাবী দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে দেশব্যাপী অনন্য সাধারণ মেধা অন্বেষণ তৃনমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রথম শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ দেশব্যাপী ৩টা গ্রুপে ৪টি বিষয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দ্বাদশ  শ্রেনি পর্যন্ত (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি) ছাত্র/ছাত্রীদের অংশগ্রহনে ‍সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০১৩ আয়োজন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গত ১৬/০৩/২০১৩ খ্রি: জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ব্যাপক সমারোহের মধ্যে দিয়ে  অনুষ্ঠিত হয়।

 

মানব সম্পদ উন্নয়ন  ও নারীর ক্ষমতায়নে  সরকারের যে সকল কর্মসূচী বিদ্যমান তাদের মধ্যে সেকায়েপ (SEQAEP) এর আওতায় উপবৃত্তি প্রদান ও বিভিন্ন ধরনের উৎসাহ প্রদান মূলক কার্যক্রম (পুরুস্কার প্রদান কর্মসূচী) অন্যতম।  শিক্ষিত নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, নারী পুরুষের বৈষম্য হ্রাস, বাল্য বিবাহ রোধ ও সর্বোপরী শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলাতেই সেকায়েপ (SEQAEP) এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 

 

বর্তমান সময়ে সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠদান ও মূল্যয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক কর্তৃক শ্রেণীকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়ার উন্নতি সাধন, শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের মূল্যায়ন, শিক্ষণ ফল যাচাই এবং শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়ন শিক্ষার মান উন্নয়নের চাবিকাঠি। এই কার্যক্রম গুলি সার্থকভাবে সম্পাদন করতে হলে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তাই  শিক্ষা প্রশাসক ও শিক্ষকদের পেশাগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে টিকিউআই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসকদের ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্ববধায়ন এবং  শিক্ষকদের  বিভিন্ন মেয়াদে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

 

বৃটিশ কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত ইংলিশ ইন অ্যাকশন (English In Action) প্রকল্পের আওতায় ইংরেজি শিক্ষার মান উন্নয়নে কিছু কিছু নির্বাচিত জেলায় নির্বাচিত উপজেলা সমূহে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর লক্ষ্যে হলো শিক্ষার্থীদের ইংরেজীতে দক্ষ করে তোলা। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় ৩৯টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় দুই জন স্থানীয় প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে র্নিবাচিত ৩৯টি বিদ্যালয়ের দুইজন করে শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এছাড়া আর্ন্তজাতিক ভাবে বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ধারনা বিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্ঠা চালানো হচ্ছে।

 

 

অভিভাবক সমাবেশ/মা সমাবেশ :

 

শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসাধারণের ভূমিকা খূবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত না পারলে কাংখিত লক্ষে পোছানো সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের লক্ষে মেহেরপুর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ধারাবাহিক ভাবে অভিভাবক সমাবেশ/মা সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এ সকল সমাবেশে সমসাময়িক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। যেমন মাদকদ্রবের কুফল, মাদক পাচার, নারী পাচার, বাল্য বিবাহের কুফল ও বাল্যবিবাহ রোধে করণীয়, দৃর্ণীতি সম্পর্কিত আলোচনা ইত্যাদি।